পাকিস্তানে আবারো সেনা-সরকার মুখোমুখি

মুক্ত চেতনা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: তাহলে কি পাকিস্তান ফের সেনা শাসনে ফিরছে! গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর ফলে প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত)  খালিদ নাঈম লোধিকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। এরপরই সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানি সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডারদের জরুরি সভা আহ্বান করেন। এতে চারদিকে আলোচনা শুরু হয়- পাকিস্তানে সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে যে কোন সময়। এর আগে সেনাপ্রধান কিয়ানি ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা মেমোগেট কেলেঙ্কারির বিষয়ে অবৈধভাবে আদালতে বিবৃতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী গিলানি। তার একদিন পরেই গতকাল সেনাবাহিনী থেকে সরকারের এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমন বক্তব্যে দেশের পরিণতি হবে ভয়াবহ। সেনাপ্রধান ও আইএসআই’র ডিজির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী করেছেন তার চেয়ে মারাত্মক কোন অভিযোগ হতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরিণতি ভয়াবহ। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক মিনিটের মাথায়ই প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) খালিদ নাঈম লোধিকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী গিলানি। সেনাপ্রধান কিয়ানির সঙ্গে এই খালিদ নাঈমের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাকে বরখাস্ত করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে সেনাপ্রধান জরুরিভিত্তিতে সভা আহ্বান করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই সভার ফল জানা যায়নি।
ওদিকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গেও সরকারের দা-কুমড়ো সম্পর্ক। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা পুনরুজ্জীবিত না করলে আদালত প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে বরখাস্ত করতে পারে। এমন অবস্থায় গতকাল খবর ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও সরকারে তার জোট চাইলে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি পদত্যাগে প্রস্তুত। এর পরই প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেন। ওদিকে, আদালতের এমন হুমকির পর সরকারের উচ্চ মহলে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। ক্ষমতাসীন জোট সরকার আজ পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার দিন শেষে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির যৌথ সভাপতিত্বে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই পার্লামেন্টের এ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জোট সরকারের অংশীদার দলগুলোর প্রধানরা। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেন, ওই বৈঠকে প্রস্তাব করা হয় জাতীয় পরিষদ বা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা যেতে পারে। তাতে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর নেতারা একমত হন যে, জাতীয় পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসবে আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায়। এ অধিবেশনের আগে পার্লামেন্টারি পার্টিগুলোর একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে পার্লামেন্ট হাউসে। এর আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার সরকারকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, যদি প্রেসিডেন্টসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আদালত। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট তাদেরকে বরখাস্তও করতে পারে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। কিন্তু সেই মামলাগুলো থেকে তাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ দায়মুক্তি দিয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করেন। এর পরই আসিফ আলী জারদারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এখন নতুন করে ওই মামলাগুলো পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এরই মধ্যে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন- তারা যেন সুইস কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাগুলো ফের চালু করার জন্য চিঠি দেন। কিন্তু সরকার থেকে এ বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে দেন। তা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখন তোলপাড় চলছে। ওদিকে আদালত এ রায় দেয়ার দিনেই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত নভেম্বরে আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ২৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর এটাই প্রথম ড্রোন হামলা। আদালতের সঙ্গে সরকারের সংঘাত শুরু হয় সেই ২০০৯ সাল থেকে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও আরও কয়েক শ রাজনীতিক দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলা থেকে যে সাধারণ ক্ষমার আওতায় ছিলেন, ওই বছর আদালত তা প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে আদালত তাদের বিরুদ্ধে ওই মামলাগুলো ফের চালু করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকার তা না করে গড়িমসি করে। তারা যুক্তি দেয়, প্রেসিডেন্ট বিচারের আওতা থেকে মুক্ত। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের একটি বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছে, তাতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ঝড়ো হাওয়া বইছে। ওই বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে একজন অসৎ মানুষ বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, প্রেসিডেন্ট ও অন্য যারা সাধারণ ক্ষমার সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো ফের চালু করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল- তারা যেন এ বিষয়ে সুইস কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখে। কিন্তু সরকার তা না করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলেও মন্তব্য করে আদালত। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীকে অসৎ মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে ও তাকে আগামী ৫ বছর পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষণার আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এখন সেই ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরী প্রধান বিচারপতি, যার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের গদি নড়ে যায়। ওদিকে পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবেও বেশ চাপে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন শাণিয়ে তুলেছেন তেহরিকে ইনসাফ দলের প্রধান ইমরান খান। এ মাসেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফ।(সূত্র-বিজয় নিউজ ২৪ ডটকম)

Posted by HBNtv.com on ৬:১২ AM. Filed under , . You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0

0 মন্তব্য(গুলি) for �পাকিস্তানে আবারো সেনা-সরকার মুখোমুখি�

Leave comment

Dhaka

dailyvid

FLICKR PHOTO STREAM

2010 BlogNews Magazine. All Rights Reserved. - Designed by SimplexDesign